
জবি সংবাদদাতা।। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) এ সম্পূর্ণ অনাবাসিক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের থাকতে হয় পুরাণ ঢাকার গিঞ্জি পরিবেশের মেসে। নিম্ন ও মধ্যবৃত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীরা আস্তে আস্তে গিঞ্জি পরিবেশের মানিয়ে নেয়। নানা প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে চলতে হয় শিক্ষার্থীদের ।
লেখাপড়া শেষ করেই চাকরির লক্ষ্যে ক্যাম্পাসেই পড়ালেখা করে অনাবাসিক এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের । এর ফলে প্রতিবছর বিসিএস,ব্যাংক,এস আই নিয়োগ সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম সারির দিকে স্থান করে নিচ্ছে এখানকার মেধাবী শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থাকলেও নিয়মের যাতাকলে পড়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা । এই জন্য উন্মুক্ত গ্রন্থাগারের আগ্রহ শিক্ষার্থীদের ।
শিক্ষার্থীদের সুবিধার লক্ষ্যে ২০১৮ সালের এপ্রিলে কলা অনুষদে উন্মুক্ত গ্রন্থাগারের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান । তখন বলা হয়েছিল, বিভাগীয় পরীক্ষার দিন ব্যতীত প্রতিদিন দুপুর ১টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত পাঠাগার খোলা থাকবে। বিভাগীয় পরীক্ষার দিন বিকাল ৪টা হতে উন্মুক্ত পাঠাগারটি উন্মুক্ত থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সংস্থা, সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের পঠন-পাঠনের কাজে উন্মুক্ত পাঠাগারটি ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছিল। এর পর থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। সেখানে জায়গা সংকটের কারনে শহীদ রফিক ভবনের নিচতলার রুমগুলোতেও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং এখানেও জায়গার সংকট দেখা যায় ।
শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাস চলাকালীন পড়তে পারেন না শিক্ষার্থীরা। ক্লাস চললে বাইরে বসে থাকতে হয় । অপেক্ষা করতে হয় ক্লাস শেষ হওয়ার জন্য। শিক্ষার্থীরা পড়ার জন্য আলাদা রুম চান যেখানে সারাদিন শুধু পড়ালেখা করা যাবে। কোন ক্লাস হবে না। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান শিক্ষার্থীরা।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জবির ভাষা শহিদ রফিক ভবনের নিচের বেশ কয়েকটি রুম থাকলেও সেখানেও বিকাল ৩.০০ পর্যন্ত চলে বোটানি এবং পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস।ক্লাস সময়ের শেষে চাকরি প্রত্যাশী ও বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের খুব চাপ থাকে।বজলুর রহমান মিলনায়তনের নিচে ২ টি রুম থাকলেও সেখানে ইসলামের ইতিহাসের ক্লাস হওয়ার পর সেখানেও থাকে উপচে পরা ভিড়।সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়,প্রতি বেঞ্চে ৩-৪ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে,অনেকেই এসে জায়গা না পেয়ে চলে যাচ্ছে।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়েজ জানান ,আগ্রহ থাকা সত্বেও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেনা । অন্য সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাত দিন পড়ার জন্য জায়গা পাচ্ছে কিন্তু আমরা এসকল সুবিধা হতে বঞ্চিত হচ্ছি।
দর্শন বিভাগের সাহেদ আলম বলেন, আমরা লেখাপার জন্য স্থায়ী সমাধান চাই। যেন সারাদিন সেখানে পড়তে পারি । সেখানো কোন বিভাগের ক্লাস হবেনা শুধু লেখাপড়া করবো । বর্তমানে যে রুমগুলোতে আমরা লেখাপড়া করি , ক্লাস টাইমে আমাদের উঠে আসতে হয় । এতো আমাদর পড়ার আগ্রহ হারিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে জবি প্রক্টর মোস্তফা কামাল বলেন,আমরা এ ব্যাপারে মিটিং এ আলোচনা করেছি,খুব শিগ্রই শিক্ষার্থীদের এ সমস্যার সমাধান হবে।